• ই-পেপার

আহত প্রাণীর সেবায় শেকৃবি শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গঠন

জাবিতে আর্জেন্টিনার খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষ, শিক্ষার্থী বহিষ্কার

অনলাইন ডেস্ক
জাবিতে আর্জেন্টিনার খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষ, শিক্ষার্থী বহিষ্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মুক্তমঞ্চে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনার খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

এ ছাড়া আরেক শিক্ষার্থীর আবাসিক হলে অবস্থান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) এবং রেজিষ্ট্রার স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়ার মধ্যে খেলা দেখার সময় সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুই শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হলো।

এতে আরও বলা হয়, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ ২০১৮-২০১৯) শিক্ষার্থী মো. আসাদুজ্জামানকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রণীত শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮-এর ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার (অথবা ক্ষেত্রমতে যা প্রযোজ্য) করা হলো। সাময়িক বহিষ্কারকালীন সময়ে হলে ও ক্যাম্পাসে তিনি অবস্থান করতে পারবেন না।

এ ছাড়া দর্শন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ ২০১৮-২০১৯) শিক্ষার্থী শাহানুর রহমান তদন্ত চলাকালে নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না এবং হলে ও ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারবেন না।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. মো. শামছুল আলমকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. খন্দকার মোহাম্মদ শরিফুল হুদা, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট ড. মো. নজরুল ইসলাম ও মওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান। কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা।

লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাবিতে মানববন্ধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাবিতে মানববন্ধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্র-ছাত্রী কল্যাণ সমিতি। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সমিতির সভাপতি সৈয়দ আব্দুর রহিম বলেন, দেশে মানুষের নিরাপত্তা দিন দিন হুমকির মুখে পড়ছে। প্রকাশ্যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটলেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা সমাজে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।’

রায়পুর উপজেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি লাবিব হাসান রাব্বি বলেন, এলাকায় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেলেও সেগুলো নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তিনি নিহত পরিবারের বেঁচে থাকা একমাত্র ছেলের দায়িত্ব রাষ্ট্রীয়ভাবে নেওয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

এ সময় সমিতির সহ-সভাপতি মুফাচ্ছের হোসাইন ইমরান, সাধারণ সম্পাদক মো. সজিবসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থীশূন্য ৬২১টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষার্থীশূন্য ৬২১টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘদিন ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না করায় দেশের ৬২১টি ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিধি মোতাবেক এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন কেন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সচিব ও পরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আল মাসুদ করিম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কথা জানানো হয়।

বোর্ডের প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে, মোট ৬২১টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এসএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের ৪৪৩টি এবং দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের ১৭৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

আদেশে জানানো হয়, যেসব কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ দিন যাবৎ কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে না, সেসব প্রতিষ্ঠানে আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব ধরনের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন কেন বাতিল করা হবে না, তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে বোর্ডে জমা দিতে বলা হয়েছে।

কারিগরি বোর্ড জানিয়েছে, বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৪’ এর উপবিধি ৪.২, ৪.৪ এবং ৫.৪ অনুযায়ী শর্ত পূরণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

নীতিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ভর্তি, ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাব, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি এবং পাঠদানের অনুমতি প্রদানকালে আরোপিত অন্য শর্তাবলি পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড যেকোনো প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল বা প্রত্যাহার করতে পারবে।

শিক্ষকদের কড়া বার্তা মন্ত্রীর, গ্রামে পাঠানোর হুঁশিয়ারি

খুলনা অফিস
শিক্ষকদের কড়া বার্তা মন্ত্রীর, গ্রামে পাঠানোর হুঁশিয়ারি
সংগৃহীত ছবি

যারা বিগত ২০ বছর ধরে গ্রামের শিক্ষা ফাঁকি দিয়ে শহরে এসেছেন তাদের আবারও গ্রামে পাঠানো হবে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, ‘গ্রামের শিক্ষক সংকট থাকবে আর সকলে শহরে এসে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শিক্ষকতা করবেন, সেটা হতে পারে না। শিক্ষায় গ্রামাঞ্চল অনগ্রসর থাকতে পারে না।’

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে খুলনায় কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘৬০ হাজার শিক্ষক সংকট নিয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা চলছে। এভাবে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা সম্ভব নয়, তাই পর্যায়ক্রমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। আগে পরীক্ষার্থীরা খাতা চ্যালেঞ্জ করলে শুধু নম্বরপত্র যোগ করা হতো, তাই আইন পরিবর্তন করে খাতা চেক করার সুযোগ রাখা হয়েছে।’

আসন্ন পরীক্ষা প্রসঙ্গে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘নকল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ায় দেশে নকলের প্রবণতা প্রায় নির্মূল হয়েছে। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা বিষয়ে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলাকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত উন্নয়ন ও সংস্কারের বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ বছরের জুলাই থেকে সারা বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের পোশাক ও মিড ডে মিল দেওয়া হবে। এই সরকারের কাছে কোনো দাবি জানাতে হবে না। সরকারই দাবি পূরণ করবে। শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মান বৃদ্ধি করতে হবে।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের উদ্যোগে সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ফারুখে আযম মো. আব্দুস সালাম। মতবিনিময়সভায় যশোর শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন খুলনা অঞ্চলের কেন্দ্রসচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অংশ নেন।